Monday, December 19, 2022

ক্ষুদ্র জীবন

 প্রতি রাতে এশার নামাজ পড়ে যখন দুপাশে সালাম পেশ করি, তখন ভাবি আরো একটা দিন মৃত্যুর দিকে এগিয়ে গেলাম। পরের দিন সকালে ঘুম থেকে উঠলে আবার নতুন একটা দিন শুরু হবে - সেটা একটা নেয়ামত। এই দিনের সংখ্যাটা শূন্য হবে একসময়। আমি কি বুঝতে পারব যে সংখ্যাটা শূন্য হয়ে গেছে? এই না জানাটা ও একটা নেয়ামত। কিন্তু এটা সত্য যে সংখ্যাটা শূন্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে ক্রমাগত। এটাকে থামানো যাচ্ছে না।

কবরে যখন মৃত মানুষ কে শুইয়ে দেয়া হয়, তখন মুখটা খুলে দেয়া হয়। পাশের ফাঁকা স্থানটা বাঁশ দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়, আর খালি জায়গাটা মাটি দিয়ে ভরাট করা হয়। মাঝে মাঝে এটা নিয়ে ভাবতে চেষ্টা করি - পারিনা। আমার কবরটা কেমন হবে? রিসেন্টলি জানতে পেরেছি,  মৃতের মাংস, হাড় সব কিছুই নাকি মাটিতে মিশে যায়। একটি রক্তপিণ্ড থেকে জন্ম নিয়ে আবার মাটিতে পুরোপুরি মিশে যায় সব মানুষ। জীবনের  এই চক্রটা বেশ যান্ত্রিক, কিন্তু এই মানব অনুভুতি ১০০% ব্যক্তিগত - এই জিনিসটা আমাকে খুব অবাক করে। এক এক মানুষ এক এক ভাবে জীবনটা যাপন করে।   

পুরোটা জীবন পার করেও মানুষ নিজেকে চিনতে পারে না। কি আফসোস! কেও কেও অমরত্ত লাভের  নেশাতে মশগুল, কিন্তু সে হবার নয়, বৃথা চেষ্টা । দয়ালের ডাক এলে সব ফেলে চলে যেতে হবে।

Saturday, December 3, 2022

গানে কেন ভরেনা মন?

অনেক ছোট বেলা থেকে গান শুনে আসছি। ৯০ এর দিকে আব্বা পঃ বঙ্গে গিয়ে ছিলেন অফিসের কাজে, নিয়ে এসেছিলেন দুটি ক্যাসেট - গুরু দক্ষিনা  আর হেমন্ত। কতবার ক্যাসেট দুটি শুনেছি তার ইয়ত্তা নেই। ছোট বেলা থেকে তাই হেমন্তর গানের ভক্ত। মনে পড়ে ঝকক তে গেয়েছিলাম স্টেজে একবার - "আমায় প্রশ্ন করে নীল ধ্রুবতারা"। তারপর ভার্সিটি তে শুনা শুরু করি কিশোর কুমারঃ "ওপারে থাকব আমি তুমি রইবে এপারে", "আজ এই দিনটাকে মনের পাতায় লিখে রাখ"। প্রতিটা গানের সাথে জড়িয়ে  আছে মূল্যবান অনেক স্মৃতি। এই গান গুলোই যেন আমার শৈশব আর কৈশোর কে বাঁচিয়ে রেখেছে।

কানাডাতে ১০ বছর হয়ে গেল। এসেছিলাম ২০১২ সালে। সব কিছু বদলে গেছে, একটা অভ্যাস বদলায়নি -- গান শুনা। এখনও গান শুনি। পুরাতন, নতুন সব গানঃ  হেমন্ত, কিশোর কুমার, এন্দ্রু কিশোর, জেমস, উদিত নারায়ণ, কুমার সানু, তাহসান, ইমরান, মিনার, মাহতাম সাকিব, এবং আরও অনেকের গান। নতুন প্রজন্মের কণ্ঠে গান বেশ ভাল লাগে। Seylone মিউজিক টা বেশ ভাল, পার্থ পরিচালনা করে। পুরাতন গান গুলো নতুন করে শুনতে ভাল লাগে। 

গান শুনি; ছোট ছোট সমস্যা গুলোকে গান দিয়ে সমাধান করে ফেলা যায়। কিন্তু কিছু কিছু সময় তা সম্ভব নয়। মাঝে মাঝে নীরবতা ই সমাধান। ইউটিউবের অটো-সাজেশণ টা বেশ ভাল, এটি বুঝে ফেলেছে কোন কোন গান আমার পছন্দ। তাই কোন গানের পর কোনটা আসবে আমি বলে দিতে পারি। এটা এক দিক থেকে ভাল, আবার অন্য দিক থেকে খারাপ। মাঝে মাঝে একটু ঘেয়ে লাগে।  ইউটিউব না থাকলে জীবনটা কেমন হত?

ভাবছি কিছু লেখা লেখির অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। সপ্তাহে অন্তত একবার। একটা সৃজনশীল শখ থাকা বেশ দরকার। জীবন টা পার হয়ে যাচ্ছে। মেয়ের বয়স ৫। ও স্কুলে যাচ্ছে, নতুন নতুন জিনিস শিখছে, আর আমাকে শেখাচ্ছে। মন্দ নয় এই অভিজ্ঞতা। আজ এতটুকুই।